বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

ব্রিটিশ তরুণদের চাকরি সংকট বাড়ছে

লেবার পার্টি সরকার গঠনের পর যুক্তরাজ্যে কর্মসংস্থান পরিস্থিতি আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে।

লেবার পার্টি সরকার গঠনের পর যুক্তরাজ্যে কর্মসংস্থান পরিস্থিতি আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে গত বছরের জুন থেকে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাদ দিয়েছে নিয়মিত বেতনভুক্ত ১ লাখ ৭০ হাজার কর্মী। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের কম। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

লেবার সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডেভিড ব্লাংকেট বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের তরুণদের মধ্যে যে মাত্রায় বেকারত্ব বাড়ছে, তা পুরো একটি প্রজন্মকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতি একটি হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম তৈরি করতে পারে। এখনই পদক্ষেপ না নিলে এর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত পরিণতি ভয়াবহ হবে।’

১৯৯০-এর দশকে টনি ব্লেয়ার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে যুবকদের জন্য চালু হয় নিউ ডিল কর্মসূচি। তেমন উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেন ডেভিড ব্লাংকেট। ওই সময় বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে বড় পরিসরের সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছিল সরকার।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে যুব বেকারত্বের হার এক বছরে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশে। কভিড-মহামারীকাল বাদ দিলে এটি ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ বেকারত্বের হার। ২৫ বছরের কম বয়সীরা যুক্তরাজ্যের মোট কর্মশক্তির এক-দশমাংশ হলেও চাকরি হ্রাসের সবচেয়ে বড় চাপ তাদের ওপরই পড়েছে। এর মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সীদের চাকরি হারানোর হার বেশি।

যুক্তরাজ্যের কর ও রাজস্ব বিষয়ক দপ্তর এইচএমআরসির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী গত মাসের তুলনায় চলতি নভেম্বরে ২৫ বছরের কম বয়সী কর্মীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, প্রায় ৩৭ হাজার। তবে গত বছরের জুনের তুলনায় এ বয়সী মোট কর্মীসংখ্যা এখনো কম রয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, গত বছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভস নিয়োগদাতাদের ওপর জাতীয় বীমা অবদান ২ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এতে আতিথেয়তা, খুচরা বিক্রি ও সেবা খাতের নিয়োগ কমেছে। সাধারণত এসব খাতের মাধ্যমে তরুণদের বড় একটি অংশ চাকরি বাজারে প্রবেশ করেন।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই) সতর্ক করে বলছে, উচ্চ করের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া মন্থর হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া অর্থমন্ত্রী মেল স্ট্রাইড বলেন, ‘যুবকদের কর্মসংস্থানের সংকটের দায় পুরোপুরি র‌্যাচেল রিভসের কাঁধে।’

লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের ট্রেজারি মুখপাত্র ডেইজি কুপার বলেছেন, ‘রিভসের উচিত ২৬ নভেম্বরের বাজেটে কর বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা। তরুণদের চাকরির সংকট এখন বড় ধরনের বিস্ফোরণের অপেক্ষায় থাকা একটি ঝুঁকি।’

প্রতিবেদন অনুসারে পড়াশোনা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের আওতায় নেই এমন তরুণদের নিয়ে ব্রিটিশ সরকার বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। শিগগিরই প্রকাশ হতে যাওয়া সরকারি এক প্রতিবেদন অনুযায়ী এমন তরুণের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি হতে পারে। যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

র‌্যাচেল রিভস এবারের বাজেটে ‘ইয়ুথ গ্যারান্টি’ নামে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন। এতে ১৮ মাস ধরে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটে থাকা ও কাজ বা শিক্ষায় যুক্ত না থাকা প্রত্যেক যুবককে বেতনের বিনিময়ে কাজের সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংকট কাটাতে আরো বড় উদ্যোগ নেয়া জরুরি। ওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের পরিচালক বেন হ্যারিসন বলেন, ‘পরবর্তী নির্বাচনের আগেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হলে এখনই বাড়তি বিনিয়োগ ও সহায়তা প্রয়োজন।’

আরও